‘দুর্নীতির অভিপ্রায়’ কল্পনায় ৫জি প্রস্তুতি বাতিলের দাবি
দেশে ফাইভজির জন্য উপযুক্ত নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএল। ‘ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি উন্নয়ন ও রিডানডেন্সি বৃদ্ধিকরণ (৫জি রেডিনেস)’ নামে এই প্রকল্প ২০২৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিলো। তবে নানা নাটকীয়তায় শেষ গত মাসে প্রকল্পটির জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহের গিট খুলেছে। কিন্তু এই প্রকল্পে ‘দুর্নীতির অভিপ্রায়’ আছে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (২ ডিসেম্বর ২০২৩) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির ব্যানারে ‘বিটিসিএলে ৫ম প্রকল্পে অনিয়ম ও প্রকল্প এ বাতিল এর দাবিতে মানববন্ধন’ থেকে এই দাবি তোলা হয়। সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া কাজী আব্দুল হান্নান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়, জাতীয় তরুণ সংঘের সভাপতি ফজলুল হক, গ্রীণ পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ খান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য এড. শাহেদা বেগম, ডা. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
মানবন্ধেনে দেয়া বক্তব্যে বর্তমানে একটি ইংরেজি পত্রিকার অনলাইন ইনচার্জ কাজী আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, যে সি ব্যান্ড ইকুইপমেন্ট দিয়ে ডিডাব্লিউডিএম কিনতে যাচ্ছে বিটিসিএল তা বিটিসিএল ক্রয় করেছে ২০১৬ সালেই। আর তখন বিবেচনায় ছিল থ্রি জি। বর্তমানে ৫জি বিবেচনায় নিয়ে কোনভাবেই সি ব্যান্ড কিনতে পারে না। সি ব্যান্ড এর ডিডাব্লিউডিএম নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিটিসিএলে থাকতে আরেকটা সেইম টেকনোলজির ডিডাব্লিউডিএম কেনা শুধুই সরকারের আর্থিক অপচয়।
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বিটিসিএল জানুয়ারি ২০২২ হতে ডিসেম্বর ২০২৪ মেয়াদে সমগ্র দেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও এখনও ভেন্ডর নিয়োগ দিতে পারেনি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অথচ প্রকল্পের শুরুতেই ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যা দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরা লাভবানের উদ্দেশ্যে কমদামী ইকুইপমেন্ট ক্রয় সহ কারিগরী বিনির্দেশ সঠিকভাবে প্রস্তুত না করায় এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে যাচ্ছে এবং বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিপিপি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথের চাহিদা হবে ২৯ হাজার ৮০০ জিবিপিএস, যা বুয়েটের সমীক্ষায়ও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণিত দরপত্রে ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের সংস্থান রাখা হয়েছে, যা বুয়েটের সমীক্ষায় উল্লেখ করা সক্ষমতার চার গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
এছাড়াও বিটিআরসির প্রক্ষেপণে ২০৩০ সাল নাগাদ সারা দেশের ব্যান্ডউইথের সম্ভাব্য চাহিদা হবে ৩৭ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। যার ৩০ শতাংশ হিসেবে ১১ হাজার ২৫০ জিবিপিএস বিটিসিএল ধারণ করবে। সে তুলনায় আলোচ্য টেন্ডারে ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ জিবিপিএস ক্যাপাসিটির সংস্থান রাখা হয়েছে, যা বিটিআরসির প্রক্ষেপণের প্রায় ১২ গুণ বেশি।
প্রসঙ্গত, এর আগেও চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠনের প্যাডে বিষয়টি নিয়ে পনিকল্পনার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে ওই অভিযোগ বিষয়ে জানতে সংগঠনটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ালে সেটিও স্থগিত করে দেয় সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, এক রিট পিটিশনের শুনানিতে (রিট পিটিশন নং-১৩২৮৭/২০২৩) গত ৮ নভেম্বর চেম্বার জজ আদালতের নির্দেশে বাণিজ্যিক প্রস্তাব উন্মোচন করা হয়। এরপর গত ১৯ নভেম্বর নিজেদের প্রধান কার্যালয়ে হুয়াওয়ের সঙ্গে যন্ত্রাদি সরবরাহের এই চুক্তিবদ্ধ হয় বিটিসিএল।







